মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

দর্শনীয় স্থান

মাটিরাঙ্গা উপজেলার দর্শনীয় স্থান সমূহ নিম্নে তালিকা অনুযায়ী দেওয়া হলো।

১। মাটিরাঙ্গা উপজেলার রিছাং ঝরনাঃ

কিভাবে যাওয়া যায়: 
আলুটিলা পর্যটন স্পট থেকে প্রায় ৩কিঃ মিঃ পশ্চিমে (খাগড়াছড়ি থেকে ১১কিঃমিঃ) খাগড়াছড়ি-মাটিরাঙ্গা সড়ক হতে বাম পার্শ্বে ১কিঃ মিঃ দক্ষিণে।

খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে ঢাকা-মাটিরাঙ্গা-খাগড়াছড়ি মূল সড়কের পাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত  রিসাংঝর্নার শিরশির ছন্দে হিম শীতল বহমান স্বচ্ছ পানির আওয়াজ পর্যটকদের মন আকর্ষণ করে। আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত রিসাং ঝর্না । মূল সড়ক থেকে নেমে খানিকটা উত্তরে গেলেই শোনা যায় ঝর্নার পানির শব্দ। ঝর্ণার সমগ্র যাত্রা পথটাই দারুণ রোমাঞ্চ কর ।যাত্রাপথে দূরের উঁচু-নীচু সবুজ পাহাড়,বুনোঝোঁপ,নামহীন রঙ্গীন বুনোফুলের নয়নাভিরাম অফুরন্ত সৌন্দর্য্য যে কাউকে এক কল্পনার রাজ্যে নিয়ে যায় । ঝর্ণার কাছে গেলে এক পবিত্র স্নিগ্ধতায় দেহ মন ভরে উঠে । ২৫-৩০ হাত উঁচু পাহাড় থেকে আছড়ে পড়ছে ঝর্ণার জলরাশি, ঢালুপাহাড় গড়িয়ে নীচে মেমে যাচ্ছে এই প্রবাহ। কাছাকাছি দুটো ঝর্ণা রয়েছে এ স্থানে, প্রতিদিন বহু সংখ্যক পর্যটক এখানে এসে ভীড় জমান এবং ঝর্ণার শীতল পানিতে গাভিজিয়ে প্রকৃতির সাথে একাত্মহন। মারমা ভাষায় এর নাম রিছাং ঝর্ণা, ‘রি’ শব্দের অর্থ পানি আর ‘ছাং’ শব্দের অর্থ গড়িয়ে পড়া। মূল সড়ক হতে রিছাং ঝর্ণায় যাওয়ার পথে চারিদিকের পাহাড়ী প্রকৃতি মনের মাঝে এক অনুপম অনুভূতির সৃষ্টি করে। ইচ্ছে করে প্রকৃতির মাঝেই কাটিয়ে দিই সারাক্ষণ। ঝর্ণা ছেড়ে মন চায়না ফিরে আসতে কোলাহল মূখর জনারণ্যে । এখানে পাশাপাশি দুটি ঝর্নার মধ্যে পর্যটকদের সুবিধার জন্য একটি ঝর্নায় যাওয়ার জন্য পাকা সিঁড়িতৈ রিকরা হয়েছে। আর প্রথম এই ঝর্নাটি থেকে আর ও প্রায় ২০০ গজ ভেতরে গেলে দেখা মেলে দ্বিতীয় ঝর্নাটির । খাগড়াছড়ি জেলা শহর এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদ  থেকে রিসাং ঝর্নার এই স্থানটির দূরত্ব মাত্র ১১ ও ১০ কিলোমিটার । তবে একেবারে ঝর্নার উত্ সমুখে যাওয়ার জন্য স্রেফ গাড়িতে বসে থাকলে চলবে না। বরংঅল্প বিস্তর পথ পায়ে হেঁটেও চলতে হবে । রিসাং ঝর্নায় যেতে চাইলে খাগড়াছড়ি শহর কিংবা মাটিরাঙ্গা থেকে সকাল সকাল বাস বা চাঁদের গাড়িতে চড়ে বেরিয়ে পড়াই ভালো । ঢাকার দিককার রাস্তায় দশ কিলোমিটার পথ এভাবে এসে আলুটিলার গুহা পার হলেই মূল রাস্তা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে রিসাং। রিসাং ঝর্নার সৌন্দর্যের পাশাপাশি পাহাড়ি পথে দুই কিলোমিটার হাঁটা টাও কম মোহনীয় নয়। তাই একদিকে সবুজ পাহাড়ও পাহাড়ী মানুষের জীবন ধারা আর অন্যদিকে হাজার ফুট নিচের উপত্যকার সৌন্দর্য দেখতে দেখতে এই পথ টুকু খুব সহজেই হেঁটে যাওয়া যায় । রিসাং এর মূল প্রাকৃতিক ঝর্নাটি প্রায় ১০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ছে । আর এক বার জলের ধারা নিচে পড়ার পর তা আর ও প্রায় ১০০ ফুট পাথরেরও পর গড়ি য়ে নেমে এসেছে সমতলে । মূলত ঝর্নাটির বিশেষ এই বৈশিষ্ট্যটির কারণেই অনেকে ঢালু এই পথে পিছল খেয়ে পড়ার মতো করে প্রাকৃতিক ওয়াটার স্লাইডিং করতে ভালোবাসেন । যদিও পাথুরে স্লাইড বলে পিছল খেয়ে নামার জন্য মোটা কাপড় বা ছালার মতো কোনো সামগ্রী ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ । এ ছাড়া রিসাং ঝর্নার পাদদেশে যেখান থেকে ঝর্নার পানি সমতলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে সেখানে চাইলে সাঁতার কাটা বা গোসল করার সুবিধাও আছে। কিভাবে যাওয়া যায়: মহাসড়ক হতে হেরিংবোন রাস্তায় জীপ, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস বা পায়ে হেঁটে যাতায়াত করা যায়।

 

অবস্থান: 

আলুটিলা পর্যটন স্পট থেকে প্রায় ৩কিঃ মিঃ পশ্চিমে (খাগড়াছড়ি থেকে ১১কিঃমিঃ) খাগড়াছড়ি-মাটিরাঙ্গা সড়ক হতে বাম পার্শ্বে ১কিঃ

মিঃ দক্ষিণে।

অবস্থান: 
মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা নামক স্থানে

 

 

২। মাটিরাঙ্গা উপজেলার ভগবান টিলা।

কিভাবে যাওয়া যায়: 
মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে তাইন্দং সীমান্তে অবস্থিত ভগবান টিলা

মাটরাঙ্গা উপজেলার তাইন্দং সীমান্তে অবস্থিত ভগবান টিলা। মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে এর দুরত্ব আনুমানিক ৪৫ কিলোমিটার। ঘন সবুজের ভেতর আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে যতই এগোতে থাকবেন পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য়ে আপনি ততটাই বিস্মিত হবেন। এ যেন বিধাতার হাতে গড়া পর্বত রূপসী। সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় এক হাজার ৬শ’ ফুট উচুতে অবস্থিত এ টিলা নিয়ে জনশ্রুতি আছে, এত উচু টিলায় দাড়িয়ে ডাক দিলে স্বয়ং স্রষ্টাও শুনতে পাবেন। তাই আগেকার লোকজন এর নাম দিয়েছেন ভগবান টিলা।

অবস্থান: 
মাটিরাঙ্গা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ তাইন্দং সীমান্তে অবস্থিত ভগবান টিলা।

 

 

৩। মাটিরাঙ্গা শতবর্ষী বটগাছঃ

 

কিভাবে যাওয়া যায়: 
মাটিরাঙ্গা থেক খেদাছড়া

মাটিরাঙ্গার খেদাছড়ার কাছাকাছি এলাকায় রয়েছে শতবর্ষী  এক বটগাছ। এই গাছ শুধু ইতিহাসের সাক্ষী নয়, এ যেন দর্শানাথীদের জন্য আশ্চর্য এক বস্তু। পাঁচ একরেরও বেশি জায়গাজুড়ে রয়েছে এ গাছ। মূল বটগাছটি থেকে নেমে আসা প্রতিটি ঝুড়িমূল কালের পরিক্রমায় এক একটি নতুন বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, ঝুড়ি মূল থেকে সৃষ্টি প্রতিটি গাছ মূল গাছের সঙ্গে সন্তানের মতোই জড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের মতে, এ বটবৃক্ষের নিচে বসে যিনি শীতল বাতাস লাগাবেন তিনিও শতবর্ষী হবেন।

অবস্থান: 
মাটিরাঙ্গা উপজেলার খেদাছড়া নামক স্থানে অবস্থিত শতবর্ষী বটগাছ
 

৪। মাটিরাঙ্গা ‍উপজলার আলুটলা গুহাঃ

কিভাবে যাওয়া যায়: 
মাটিরাঙ্গা থেকে ১১ কিলোমিটার জেলা শহর পথে। অথবা জেলা শহর থেকে মাত্র আট কিলোমিটার পশ্চিমে আলুটিলার অবস্থান

মাটিরাঙ্গা উপজেলায় আলুটিলার সবচেয়ে আকষীয় স্থান হচ্ছে পাহাড়ের পাদদেশে রহস্যময় এক গুহা। প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি বিশাল ওই গুহাটি পাহাড়কে একপাশ থেকে অন্য পাশ পযন্ত ভেদ করেছে। ঘুটঘুটে অন্ধকার এই গুহার ওপর থেকে ঝিরঝির করে পড়ে পানি। গুহার ভিতর ঢুকতে হলে মশাল জ্বালিয়ে যেতে হয়। পযটন কেন্দেই ৫ থেকে ১০ টাকা দিয়ে পাওয়া যায় মশায়। গা ছমছম করা অনুভূতি নিয়ে পাহাড়ি সুরঙ্গ পথ বেয়ে নামতে নামতে মনে হবে আপনি যেন পাতালে চলে যাচ্ছেন। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে গুহার মুখ পযন্ত যেতে এক সময় দশনাথীদের অনেক কষ্ট করতে হতো। তবে জেলা পরিষদ সেখানে পাকা সিড়ি নিমান করায় এখন পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬ টি সিড়ি বেয়ে চলে যাওয়া যায় নিচে। আলুটিলা সুরঙ্গের দৈঘ্য প্রায় ২৮২ ফুট।

অবস্থান: 
মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা নামক স্থানে

 

 

৫। মাটিরাঙ্গা জ্বল পাহাড়ঃ

কিভাবে যাওয়া যায়: 

মাটিরাঙ্গা উপজেলায় সবচেয়ে আকষীয় স্থান হচ্ছে পানির পাদদেশে রহস্যময় এক জল পাহাড়। প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি বিশাল ওই জল পাহাড়কে একপাশ থেকে অন্য পাশ পযন্ত ভেদ করেছে।

অবস্থান: 
মাটিরাঙ্গা উপজেলার পাশ্বে।