মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

এক নজরে মাটিরাঙ্গা

এক নজরে মাটিরাঙ্গা উপজেলার পরিচিতি

জনশ্রুতি রয়েছে যে, মাটিরাঙ্গা উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে জনবসতির গোড়াপত্তনকালে অতি:বৃষ্টিতে ধ্বসে পড়া একটি পাহাড়ের মাটির রং তামাটে লাল দেখে জায়গার নাম ‘‘মাটিরাঙ্গা’’ নাম করণ করা হয়

  ১৯৮৩ সালে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ঘোষনা করা হয়।

অবস্থান ও আয়তনঃ

মাটিরাঙ্গা আদর্শ উপজেলা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পশ্চিম সীমামেত্ম অবস্থিত। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম এ উপজেলায় উপজাতি ও অ-উপজাতি মিলে প্রায় দেড় লক্ষাধিক জনগোষ্ঠির বসবাস। অতি বৃষ্টিতে ধ্বসে পড়া পাহাড়ের মাটির রং তামাটে লাল থেকে ‘‘মাটিরাঙ্গা’’ নামকরণ করা হয়। ১৯৮৩ সালে মাটিরাঙ্গাকে উপজেলা ঘোষণা করা হয়। এ উপজেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমামত্ম ও পানছড়ি উপজেলা দক্ষিণে গুইমারা উপজেলা, পূর্বে খাগড়াছড়ি সদর ও মহালছড়ি উপজেলা এবং পশ্চিমে ফেণী নদী, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমামত্ম ও রামগড় উপজেলা। উপজেলাটি ২২৫৭র্ থেকে ২৩২৪র্ উত্তর অংশ এবং ৯১৪৫র্ থেকে ৯১৫৯র্ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এ উপজেলার মোট আয়তন ৪৫১.৪০ বর্গ কিলোমিটার।

 

ভূ-প্রকৃতিঃ

উপজেলাটি মুলতঃ পস্নাইস্টোসিন যুগের সোপানসমুহের একটি ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চল তথা বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ী এলাকা। তবে ভূমিরূপের ভিত্তিতে এ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতিকে দুটি ভাগে আলোচনা করা যায়, যথা- (ক) উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড় এবং (খ) পাহাড়ী অঞ্চল (উপত্যকা) ও পাহাড়তলীর পললভূমি (ডাংগা)।

 

ক) উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ঃউত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ের আয়তন ৪২,৫৫১ হেক্টর যা উপজেলার মোট আয়তনের শতকরা প্রায় ৮৬,৪৭ ভাগ। এ উপজেলার সর্বত্র পাহাড় দেখা গেলেও এগুলোর উচ্চতা ও ঢালের ভিন্নতা সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। পাহাড়গুলো প্রধানত উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে লম্বা লম্বিভাবে বিসত্মৃত এবং ছোট বড় পাহাড়ী ছড়া বা উপত্যকা দ্বারা গভীরভাবে খন্ডিত। সাধারণত পাললিক শিলা দ্বারা খন্ডিত। উচ্চতার উপর নির্ভর করে পাহাড়গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

 

১) উঁচু পাহাড়ঃ উঁচু পাহাড়ের  আয়তন ৪,৮২০ হেক্টর। ১৫০ হতে ৩০০ মিটার এর অধিক উচ্চতার এসব পাহাড় প্রধানত অত্যধিক খাড়া ঢালসম্পন্ন এবং সাধারণত শক্ত ও মাঝারি শক্ত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত। অত্যধিক খাড়া ঢালে এসব পাহাড়ী ভূমিতে ভূমি ও ভূমিধস অত্যমত্ম প্রকট হয়ে থাকে। এর ফলে উর্বর মাটি স্থানচ্যুত হয়ে অনুর্বর এবং অগভীর মাটির সৃষ্টি করে এবং কোথাও কোথাও শক্ত পাথর বেরিয়ে আসে। এ উপজেলার পশ্চিমাংশের বিসত্মীর্ণ এলাকায় উঁচু পাহাড় রয়েছে।

 

২) মাঝারি উঁচু পাহাড়ঃমাঝারি উঁচু পাহাড়ের আয়তন ১৬,১৮৮  হেক্টর। ১৫০ হতে ৩০০ মিটার উচ্চতার এসব পাহাড় সাধারণত অত্যধিক খাড়া ও অধিক ঢালসম্পন্ন এবং মাঝারি শক্ত ও শক্ত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত। উলিস্নখিত ঢালের ফলে এতে প্রচুর পরিমাণে ভূমি ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। সরম্ন উপত্যকা দ্বারা বিভক্ত এসব পাহাড়েও উর্বর মাটির স্থানচ্যুতি ঘটে। উপজেলার পূর্বাংশের ও পশ্চিমাংশের বিসত্মৃীর্ণ এলাকায় এ পাহাড় রয়েছে। মাঝারি উঁচু পাহাড় সংলগ্ন স্থানে কিছু কিছু পললভূমি রয়েছে, যার বিসত্মৃতি কম হওয়াতে মানচিত্রে আলাদাভাবে দেখানো যায়নি।

৩) নিচু পাহাড়ঃনিচু পাহাড়ের আয়তন ২১,৫৩ হেক্টর। ১৫০ মিটার কম উচ্চতাসম্পন্ন এসব পাহাড় উপজেলার প্রায় সর্বত্র বিদ্যমান। প্রধানত মাঝারি ঢালু হতে অধিক খাড়া ঢালসম্পন্ন এবং সাধারণত নরম পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত। নিচু পাহাড়ে ভূমিধস ও ভূমির  তীব্রতা অপেক্ষাকৃত কম থাকায় এতে গভীর মাটির সৃষ্টি হয়। নিচু পাহাড় সংলগ্ন স্থানে কিছু কিছু পললভূমি রয়েছে। এগুলো বিসত্মৃতি কম হওয়াতে মানচিত্রে আলাদাভাবে দেখানো সম্ভব হয়নি।

খ) পাহাড়ী অঞ্চল (উপত্যকা) ও পাহাড়তলীর পললভূমি (ডাংগা)ঃ  পাহাড়ী অঞ্চল ও পললভূমির আয়তন ৬,১৪২ হেক্টর যা উপজেলার শতকরা প্রায় ১২.৪৯ ভাগ। এলাকাটি ছোট-বড় সংকীর্ণ বা প্রশসত্ম উপত্যকার আকারে অথবা ডাংগা ভূমিরূপ নিয়ে বিক্ষপ্তভাবে উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে খন্ডে খন্ডে বিসত্মৃত রয়েছে। এগুলো প্রধানত নিচু ও মাঝারি উঁচু পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এবং পাহাড়ের মাটি দ্বারা গঠিত। এসব এলাকা প্রায় প্রতি বছর পাহাড়ী ঢলে পস্নাবিত হয় এবং নতুন বালি বা পলির পুরম্ন আসত্মরণে ঢাকা পড়ে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি এসব উপত্যকার মাধ্যমেই অপসারিত হয়।

 

জলবায়ুঃ

বাংলাদেশে অন্যান্য স্থানের মত এ উপজেলা  ক্রামত্মীয় মৌসুমী জলবায়ুর অমত্মর্গত। এখানে ষড়ঋতুর মধ্যে প্রধানত তিনটি মৌসুম জোরালোভাবে পরিলক্ষিত হয়। বর্ষা মৌসুম সাধারণত মে হতে অক্টোবর মাস পর্যমত্ম স্থায়ী হয়। শতকরা ৯০ ভাগ বর্ষণ এ সময় হয়। শীতকাল আরম্ভ হয় নভেম্বরে এবং শেষ হয় ফেব্রম্নয়ারিতে। এ মৌসুম অত্যমত্ম শুল্ক ও শীতল। কখনও সামান্য বৃষ্টিপাত হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাসকে গ্রীষ্ম বা প্রাক-বর্ষাকাল বলে গণ্য করা হয়। এ সময় বাতাস খুবই উত্তপ্ত হয় এবং বাতাসে জলীয় বাষ্প খুবই কম থাকে। মাঝে মধ্যে বর্ষণসহ ঝড় বা দমকা বাতাস বইতে থাকে, যাকে কালবৈশাখী বলা হয়। এ সময় কিছু শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে। এখানে সর্বনিমণ তাপমাত্রা ডিসেম্বর, জানুয়ারি মাসে পরিলক্ষিত হয়, যার গড় প্রায় ২১.১ ডিগ্রী সেলসিয়াস। চরম উষ্ণ তাপমাত্রা মে মাসে ৪২.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং চরম শীতল তাপমাত্রা জানুযারি মাসে ৬.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যমত্ম হতে পারে। শীতকালে গড় বৃষ্টিপাত ৮৭ মিলিমিটার যা ঐ সময়ের বাষ্পীভবনের চেয়ে অনেক কম। শীত মৌসুমে ৪/৫ মাস প্রায় শুল্ক থাকে। আবার বর্ষা মৌসুমের কোন কোন মাসে মাত্রাধিক বৃষ্টিপাত হয়। নভেম্বর হতে মার্চ মাস পর্যমত্ম বৃষ্টিপাতের মাসিক হার ৭৫ মিলিমিটারের কম বলে এ মাসগুলোকে শুস্ক মাস বলা হয়।

 

সাধারণ তথ্য

ক্রমিক নং

বিবরণ

তথ্য

               1            

উপজেলার সীমানা

উত্তরেঃ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমানা ও  পানছড়ি উপজেলা  দক্ষিণেঃ গুইমারা উপজেলা

পূর্বে    ঃ খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ও মহালছড়ি উপজেলা

পশ্চিমেঃ ফেনী নদী, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমানা ও রামগড় উপজেলা

              2           

উপজেলার আয়তন

৪৪১.৪০ বর্গ কিঃ মিঃ

              3           

জেলা সদর হতে দুরতব

২২ কি.মি.

              4            

মোট জনসংখ্যা

১,০৮,৭৫৩ জন। (পুরম্নষ-৫৫,১০০ জন, মহিলা-৫৪৬৫৩ জন)

(২০১১ আদম শুমারী অনুযায়ী)

              5           

জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার

১.৮৭% (জাতীয়),  ১.৭২% ( মাটিরাঙ্গা উপজেলা)

              6           

জনসংখ্যার ঘনতব

২৫৫ জন (প্রতি বর্গ কি.মি.)

              7            

নির্বাচনী এলাকা

২৯৮-পার্বত্য খাগড়াছড়ি

              8           

ভোটার সংখ্যা

৬৮,৩০৬ জন

              9            

পৌরসভা

০১ টি (আয়তন-৩৫.১১বর্গ কি.মি.)

             10          

ইউনিয়ন

০৭ টি

             11           

মৌজা

২৫ টি ( বাইল্যাছড়ি মৌজার আংশিক)।

             12          

গ্রাম

৩২৫ টি

             13          

ডাক বাংলো

০২ টি

             14          

ব্যাংক শাখা

০২ টি (সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংক)।

             15          

সরকারি খাদ্য গুদাম

০২ টি (তাইন্দং ও তবলছড়ি)।

             16          

টেলিফোন এক্সচেঞ্জ

০১ টি

             17          

গণপাঠাগার

 নাই

             18          

বেকার যুবক

২,৯২৬ জন

             19          

মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা

২২৮ জন (ভাতাভোগী)

             20          

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স

১ টি

             21          

উপজেলা ডিজিটাল সেনটার এর সংখ্যা

০১ টি (প্রতিষ্ঠার তারিখ: ০৯ মার্চ ২০১৬)

            22          

উপজেলা ডিজিটাল সেনটার এর উদ্যোক্তার সংখ্যা

০২ জন

            23          

উপজেলা ডিজিটাল সেনটার এর সেবার ধরণ

অনলাইনে সকল ধরনের সরকারি বেসরকারি, জীবন জীবিকা ভিত্তিক, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষামুলক ও বানিজ্যিক সেবা সমূহ

             24          

ইউনিয়ন/পৌর ডিজিটাল সেনটার এর সংখ্যা

০৮টি

            25          

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র

০৩ টি

            26          

কমিউনিটি ক্লিনিক

১০ টি

             27          

ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

১০ টি

            28          

দর্শনীয় স্থান সমূহ

আলুটিলা গুহা, আলুটিল বৌদ্ধ মন্দির, জল পাহাড়, রিসাং ঝর্ণা, শতবষী বটগাছ, ভগবান টিলা

             29          

পাঁকা রাসত্মা

১৯৫.৬৭  কি. মি.

             30          

কাঁচা রাসত্মা

৫০৫.৭৪ কি. মি.

             31          

জলাশয় (খাস পুকুর)

১০৩২ টি

            32          

আশ্রয়ণ প্রকল্প (জমি আছে ঘর নাই নিজ জমিতে ঘর নির্মাণ)

৮ টি (সুবিধাভোগী- ৮-টি পরিবার

            33          

আশ্রয়ন (উপজাতিদের জন্য বিশেষ ভাবে নির্মিত)

৩৮ টি (সুবিধাভোগী- ৩৮-জন)

             34          

মোট কৃষি জমি

১২,০১২ হেক্টর।

            35          

মসজিদ

৫২৩ টি।

            36          

হিন্দু মন্দির

৪৫ টি

বৌদ্ধ মন্দির

১৬টি

গীর্জা

৮টি

             37          

পোষ্ট অফিস

সাব পোষ্ট অফিস

০১ টি

০৫ টি

            38          

সাব রেজিষ্টার অফিস

নাই

             39          

প্রাণি হাসপাতাল

০১ টি

             40          

 প্রাথমিক বিদ্যালয়

১০৩  টি ( সরকারি ৮২ টি, বেসরকারি১৮ টি, কিন্ডার গার্ডেন ৩ টি)

             41          

 মাধ্যমিক বিদ্যালয়

২০ টি ( বালিকা-০১ টি,  নিমণমাধ্যমিক ০৯ টি,  মাধ্যমিক- ১০ টি)

সরকারী  মাধ্যমিক বিদ্যালয় নাই

             42          

কলেজ

০২ টি (বেসরকারি)

             43          

কারিগরি কলেজ

নাই

             44          

ফাজিল মাদ্রাসা

নাই

             45          

দাখিল মাদ্রাসা

০৫ টি

             46          

ভোকেশনাল  স্কুল

১টি

             47          

শিক্ষার হার

   ৪৪.২%

             48          

নদীর সংখ্যা

   ০২ টি  (ফেনী  ও গোমতী  নদী)

             49          

ইউনিয়ন ভূমি অফিস

নাই

             50          

মৌজা প্রধানের অফিস

২৫ টি

             51          

খেলার মাঠ

 ২২ টি

            52          

বেসরকারী সংস্থা (এনজিও)

১৩ টি ।    

            53          

মোট নিবন্ধিত সংগঠন

১১২ টি।

             54          

খাস জমির পরিমাণ

১,০৯,১৪৬.৫৩ একর (কৃষি+অকৃষি)।

            55          

রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা

নাই  

            56          

রেন্ট সার্টিফিকেট মামলায় দাবীকৃত টাকার পরিমাণ

নাই 

             57          

ভূমি উন্নয়ন কর দাবী (২০১৪-১৫)

৮০,১৪৭.০০ টাকা

            58          

আদায়ের হার (২০১৪-১৫)

১০০%

             59          

ভূমি উন্নয়ন কর দাবী (২০১৫-১৬)

৩,৪৩,১৫৩.০০ টাকা

             60          

আদায়ের হার (২০১৫-১৬)

৬০%

 

 

সংযুক্তি

matiranga potovomi_0.docx matiranga potovomi_0.docx